কুয়াশার চাদরে ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড় জেলার জনপদ

একুশে ডেস্ক রিপোর্ট 

ছবি একুশে ট্রিবিউন ফাইল ফুটেজ 



দিন দিন শীতের প্রকোপ বাড়ছে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ে নওগাঁয়। বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। সঙ্গে হিমেল হাওয়ার কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু এ জেলার মানুষজন। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না এ জনপদে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষের জনজীবন।




বুধবার পঞ্চগড়ে সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 





গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকাল ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে হিসেবে সকালের তাপমাত্রা বাড়লেও কুয়াশা ও হিমবাতাসের কারণে শীতের প্রকোপে পড়েছে এ উত্তরের জনপদ।



বুধবার নওগাঁ  জেলার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াগত কয়েকদিন থেকেই তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করছে। আগামী আরও দু-একদিন তাপমাত্রা এরকমই থাকতে পারে বলে জানান নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তারা।







বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা আজকে কিছুটা কম। ঘন কুয়াশা এবং আকাশে হালকা মেঘ থাকার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না, 



যার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এরকমই থাকতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।’







শীতের এ সময়টাতে যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন, তাদের অনেকেই বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে ভ্যানচালক, রিকশাচালক, মোটরসাইকেল বা সাইকেলে যারা চলাচল করেন তাদের জন্য কুয়াশা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষেট্রাকচালক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে গাড়ি চালাইতে অনেক কষ্ট হয়। রাতে কুয়াশার কারণে ২০ হাত দূরের রাস্তাও ভালোভাবে দেখা যায় না। রাস্তায় অনেক দুর্ঘটনাও ঘটছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিদে অনেক কষ্টে গাড়ি চালাইতে হচ্ছে।’








শীতের কারণে বেড়েছে শীতজনিত রোগব্যাধি। জেলার সদরসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা শীতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে পয়োজনীয় পরামর্শসহ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।






শহর থেকে শুরু করে গ্রাম অঞ্চলের সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ঘন কুয়াশার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনাও। গত দুই দিনে এই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।রা।স।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.