ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে সরিষার হলুদ ফুলে সজ্জিত বিস্তির্ণ মাঠ। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। ক্ষেতের পর ক্ষেতে সরিষা ফুলের এমনই নয়নাভিরাম দৃশ্য। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। মন চায় সেই হলুদের মাঝে হারিয়ে যেতে। প্রকৃতি যেন নতুন রূপে হলদে শাড়ি পরে আছে।
সরিষার ক্ষেতে ছবি তুলতে দলবেঁধে ছুটে আসছে স্কুলের ছাত্র, তরুন, শিশু এমনকি বয়স্করাও।
নিজেদের পছন্দমত ছবি তুলছে মোবাইলে। কেউ কেউ তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছে।
পৌষের সকালের মিষ্টি রোদে ঝলমল করা সরিষা ফুলের অবারিত সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। গাঢ হলুদে সোনালি রোদ মিলেমিশে এ এক অনিন্দ্য সৌন্দর্য।
চোখ জুড়ানো হলুদের মেলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে। মাঠের পর মাঠ যেন শুধু সর্ষে ফুলের হলুদ হাঁসিতে রাঙিয়ে দিয়েছে পুরো উপজেলাকে।
সদর জেলার যে কোনো এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সরিষার হলুদ ফুলের সীমাহীন বাগান। চির সবুজের বুকে এ যেনো কাঁচা হলুদের আলপনা। দুর থেকে ভেসে আসছে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ।
মধু সংগ্রহে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌ মাছির দল।তাদের গুনগুন সুরে বিমোহিত চারদিক।
মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের অপরুপ সৌন্দর্যে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাঁসি। প্রতিটি সরিষার ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। হলুদের মাঠে কৃষকের স্বপ্ন খেলা করছে এখন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কৃষকের চোখে এখন লাভের হাতছানি। কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান আমি এবছর ৪ বিঘা সরিষা চাষ করেছি আবহাওয়া অনুকূলে ভালো থাকায় বর্তমানে গাছ ভালো আছে,
কিছু দিনের মধ্য ফুল ঝরে সরিষার দানা হবে। তিনি আরো জানান, এবছর বিঘা প্রতি সরিষা চাষে তুলনায় এবছর সরিষার ফলন ভালো হওয়ার আশা তিনি ব্যক্ত করেন।
কৃষক মতালেব হোসেন জানান, দুই বিঘা জমিতে বারি-১৪ সরিষা চাষ করেছি পোকার আক্রমণ, গাছের পচন বাল্স্ট রোগে গাছ আক্রান্ত না হলে এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে বিঘা প্রতি ৭-৮ মন সরিষা ফলার সম্ভবনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে এবার অনুমানিক প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এই জেলার মাটির গুণগত মান এবং আবহাওয়া সরিষার চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায়, ফসলের ফলনও ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তারা আশাবাদী যে, বাজারে সরিষার দাম বৃদ্ধি পেলে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন। বিশেষত, সরিষা চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও সহায়তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছেন এবং সরিষার উৎপাদন বাড়াতে নানা ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা আশা করছেন, এই বছর ঠাকুরগাঁওয়ের সরিষা চাষ আরও লাভজনক হবে, এবং কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক পুরস্কার পাবেন।
সরিষার ক্ষেতগুলো এখন একেবারে সোনালি হয়ে উঠেছে, আর কৃষকদের চোখে ফুটে উঠেছে এক নতুন আশা। তারা এখন বিশ্বাস করেন, এই সরিষার ফুলের মধ্য দিয়েই তাদের স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সরকারও কৃষকদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ধরনের নীতি গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পেলে, তারা আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন নতুন ফসল চাষে।
এভাবে, ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠে সরিষা ফুলের সঙ্গে কৃষকদের স্বপ্নও দোল খাচ্ছে, আর তারা অপেক্ষা করছেন এক সাফল্যময় ভবিষ্যতের জন্য।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞