ঠাকুরগাঁওয়ে দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ, বাগান দেখতে দর্শনার্থীর ভিড়

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ



ঠাকুরগাঁওয়ে দার্জিলিং জাতের কমলা বাগান করে লাভবান হয়েছেন কৃষক জয়নাল আবেদীন। বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে প্রচুর।





ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এছাড়াও বাগানটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন। বাগানেই বিক্রয় হচ্ছে দার্জিলিং জাতের কমলা।







জেলার রুহিয়া থানার ১৪নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের উত্তর বঠিনা গ্রামের জয়নাল নামে এক কৃষক ৬ বছর আগে হর্টিকালচার থেকে হাতে গোনা কয়েকটি চারা ক্রয় করে জমিতে রোপন করে। দু’বছরের মাথায় আশানুরুপ ফল হওয়ায় বাগানের পরিধি বাড়ায়। এখন উনার বাগানে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫৫০ টি কমলা গাছ রয়েছে।









উৎপাদিত বাগানের এসব ফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পুরণ করে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি বছর বাগানের পরিধি বাড়ায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে অনেকের। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের কমলা। নভেম্বর মাস থেকে বাগানের উৎপাদিত কমলা বিক্রি করতে শুরু করেছে।








উৎপাদিত কমলা ক্রয়ে বাগানেই ছুটে আসছেন দুর দুরান্তের ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকেই প্রতি কেজি কমলা বিক্রি করছেন ২০০-২৫০ টাকা দরে। একই প্লটে উৎপাদন করছেন চারা। এই কমলা বাগান গড়ে উঠায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে নিচ্ছেন পরামর্শ।









দার্জিলিং জাতের কমলা বাগান দেখতে পঞ্চগড় থেকে পরিবারসহ আসা দর্শনার্থী এ্যাড, হকিকুল ইসলাম প্রধান বলেন আমি পরিবারসহ পঞ্চগর থেকে এসেছি কমলা বাগান দেখতে। আমি দার্জেলিং এ বাগান দেখেছি। কিন্তু এখানে কমলা বাগান যে সুন্দর তা দার্জেলিংয়ের বাগানকেও হার মানাবে। আর এই কমলা অনেক মিষ্টি। আমার দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি 

তা এই বাগান দেখেই বোঝা যায়।







আরেক দর্শনার্থী শাহাদাত ইসলাম বলেন, আমরা বেশকয়েকজন বন্ধ সহ কমলা বাগান দেখতে এসেছি। আগে কমলা বাগান শুধু ছবিতেই দেখেছি। আজ বাস্তবে গাছে ঝুলন্ত কমলা দেখলাম। আর পুরো বাগানে কমলা ঝুলে রয়েছে। দেখতেই অনেক সুন্দর লাগছে। কমলা ক্রয় করে খেলাম অনেক মিষ্টি ও রসালো কমলা। 









কমলা বাগানের শ্রমিক হাফিজ জানান, আমি বাগানের প্রথম থেকেই কাজ করছি। এখন প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ২ হাজার মানুষ আসে এই বাগান দেখতে। 




আমরা বাগানে ১০/১৫ জন এখন কাজ করতেছি। কমলা গাছ থেকে পারার জন্য ৩/৪ জন কে কাজ করতে হয়। এছাড়াও বাগান পাহাড়া দিতে হয় এখন না হলে ফল চুড়ির ভয় থাকে।


দার্জিলিং জাতের কমলার বাগানের মালিক জয়নাল আবেদীনের ভাতিজা মেহেদী হাসান বলেন, এই বাগান থেকেই এবার ১.৫ হাজার মেট্রিকটন কমলা উৎপাদন হবে আশা করছি। আমাদের বাগানের বয়স প্রায় ৬ বছর। তিন বছর পর থেকেই ফলন আসা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাগানটি ভাইরাল হয়েছে। সেজন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাগান দেখতে আসে। এছাড়াও আমার কাছে কেউ বাগান সম্পর্কে জানতে আসলে বাগান করতে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছি।







উল্লেখ্য, কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে মালটা ও কমলার বাগান রয়েছে এক হাজার বত্রিশটি। এর মধ্যে রুহিয়ায় ভারতীয় দার্জিলিং জাতের একটিই কমলা বাগান গড়ে উঠেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.