ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। মুকুল ভরা ডালে নতুন পাতার হাতছানি। ম ম ঘ্রাণে মাতোয়ারা মৌমাছির দল। ভাষায় যথাযথ ছবি ফোটানো না গেলেও আমের গাছে এমন মুকুল ফোটা দৃশ্য এখন জেলাজুড়ে যেন হলুদ আর সবুজের মিলনমেলা
জানা যায়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়েও আমের ভালো ফলন হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আম গাছের মুকুলে সেজে উঠেছে। সোনালী রোদে মুকুল ফুটে, দূর থেকে দেখে মনে হয় গাছগুলো যেন সবুজ এর মাঝে হলুদ মেলানো এক সুন্দর ছবির মতো। কৃষকরা এই মুকুলের দৃশ্য দেখে এখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তারা আশা করছেন, এবছর আমের ভালো ফলন তাদের পরিশ্রমের সঠিক ফল হিসেবে আসবে।
ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়। বিশেষত, সূর্যাপুরি, হিমসাগর , ল্যাংড়া, গোপালভোগ,মোল্লিকা, এবং ফজলি জাতের আম এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস। বসন্তের সময় গাছের মুকুল ফুটে উঠলেই কৃষকরা জানেন, যে আমগুলো বাজারে যাবে, সেগুলি ভালো হবে এবং তারা ভালো দাম পাবেন।
আম চাষি মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, "আম গাছের মুকুলের দৃশ্য আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তবে এই বছর অনেক ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। এই সময় আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফলন পেলে আমাদের জীবনের চাকা ঘুরবে।"
এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে চাষিরা আরো বেশি পরিমাণে সার ও সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানাচ্ছেন, অন্যান্য বছরও যেমন খারাপ আবহাওয়া বা বৃষ্টি তাদের উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে, এবছর তেমন কিছু না হলে তারা ভালো ফলন পেতে পারবেন।
এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের সুবিধার্থে তারা বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছেন।
বিশেষত, আমের গাছে কীটনাশক ব্যবহার, সঠিক সময়ে সেচ ব্যবস্থা এবং মাটির গুণগত মানের উন্নয়নে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের আম বাগানে মুকুল দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা এখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন, যে স্বপ্ন তাদের জীবনের কঠোর পরিশ্রমের পর সাফল্য আসবে। তারা শুধু চাইছেন, সরকার তাদের উৎপাদিত আমের সঠিক দাম নিশ্চিত করবে, যাতে তারা তাদের পরিশ্রমের ফল হিসেবে ভালো আয় করতে পারেন।



❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞