কুদরত আলী স্টাফ রিপোর্ট:
![]() |
| ছবি একুশে ট্রিবিউন |
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার বিভিন্ন চায়ের দোকান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন গাণিতিক সূত্রাবলী দেখে গণিতের সূত্র শেখানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ খাইরুল ইসলাম । সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাণিতিক সূত্রাবলীর একটি তালিকা সুস্পষ্টভাবে দেওয়ালে দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও বাংলার পাশাপাশি গণিত বিষয় পারদর্শী করে গড়ে তুলতে ‘ওয়ানডে,এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণির গণিত পাঠ্য বইয়ের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে এবং শিক্ষার্থীরা যে সকল চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে থাকে সেই সকল চায়ের দোকানে টাঙিয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম।
সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন শহীদ ফাদার লুকাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এন্জিও দাস, রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি, রুহিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেলিনা আক্তার বলে, স্যার (ইউএনও) যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সত্যি এটি প্রসংশীয়, কারণ আমরা শিক্ষার্থীরা যতই ক্লাসে এবং প্রাইভেটে গণিত পড়ি না কেন গাণিতিক সূত্রাবলী কিন্তু আমাদের মনে থাকে না। তারা আরও বলে ইউএনও স্যার যেভাবে গাণিতিক সূত্রাবলীর একটি চার্ট তৈরি করে আমাদের বিদ্যালয়ের দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছেন সত্যি অসাধারণ। ইউএনও কে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলে আমরা প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই বার গাণিতিক সূত্রাবলী দেখলে সূত্র গুলি আমাদের মুখস্থ হয়ে যাবে।
রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (বিএসসি শিক্ষক) জীতেন গোস্বামী বলেন, আমাদের ইউএনও মহোদয় এর এই ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ আসলে চমৎকার। তিনি বলেন আমি দেখেছি যে যে জায়গায় শিক্ষার্থীর আড্ডা দেয় এবং টিউশনি পড়ে সেই সব স্থানে ইউএনও স্যারের ছবিসহ সুন্দর করে একটি করে গাণিতিক সূত্রাবলী তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্যারের এহেন মহৎ উদ্যোগ প্রসংশার দাবি রাখে।
এ বিষয় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন চায়ের দোকান কিংবা কেরাম খেলার ঘরে অহেতুক আড্ডা দেওয়া, টেলিভিশন দেখা, খোশ গল্প করার পাশাপাশি যেন জ্ঞানের প্রসার ঘটে, অংকের প্রতি ভীতি কমে, সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শেখে সেই চিন্তা থেকেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি কিশোরগ্যাংরা খারাপ কাজ বাদ দিয়ে অংকের সার্কেল গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। পারস্পরিক আলোচনা করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞