রুহিয়ায় দূর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

কুদরত আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ



সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। 


কিছু দিন বাদেই প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙের আঁচড়। ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরির উৎসব। মন্দিরগুলোর ভেতরে এখন শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় প্রতিমা। বাঁশ-কাঠ আর কাদামাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মের লোকজন। 


সোমবার রুহিয়া থানাধীন বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা (কারিগর)।


আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা এবং ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গাপূজা। এর আগে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার মহালয়ার মধ্যদিয়ে দেবীপক্ষের শুরু।


রামনাথ হাট শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির,বড়দেশ্বরী শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, ঢোলারহাট শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরসহ একাধিক মন্দিরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দিরে কারিগরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একনিষ্ঠ চিত্তে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি লাগানোর কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেউ কাদা তৈরি করছেন, কেউ আবার কাদা দিয়ে হাত-পা বানাচ্ছেন। বেশিরভাগ এলাকায়ই প্রতিমায় কাদামাটি লাগানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর শুরু হবে প্রতিমায় রংতুলির ছোঁয়া ও সাজসজ্জার কাজ।


 রুহিয়া এলাকার মন্দিরগুলোর পূজার প্রতিমাশিল্পীরা বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন যাবত প্রতিমা তৈরি করে আসছি। দুর্গা প্রতিমা ছাড়াও সকল ধরনের প্রতিমা আমরা তৈরি করি। তবে দ্রব্যমূল্যের সাথে তাল মিলিয়ে রং, তুলি ও সাজসজ্জার দাম বেশি হওয়ায় এবং প্রতিমা তৈরির মজুরি কম পাওয়ায় কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে শিল্পীদের। তবে চলতি বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় একটু কম। 


মৃৎশিল্পীরা আরো বলেন, প্রতি বছর দুর্গা প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম ও চাহিদা বাড়লেও বাড়েনি প্রতিমার দাম। তবে চলতি বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি। এবার কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।


প্রতিমা তৈরির কারিগররা বলেন, অতীতে যেভাবে মানুষ মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করতে, সে চাহিদা না থাকায় আমাদের প্রায় সারাবছরই অলস সময় কাটাতে হয়। তবে দুর্গাপূজা চলাকালে প্রতিমা তৈরি করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে সারাবছর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার চলতি বছর প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতারা প্রতিমার দাম বাড়াচ্ছে না। এতে আমাদের যে টাকা আয় হওয়ার কথা, তা আর হচ্ছে না। 


রুহিয়া থানা পূজা উদযাপন কমিটির আহবায়ক বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন,রুহিয়া থানার ৬ টি ইউনিয়নে ২৮ টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 


রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, থানায় মোট ২৮টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।  


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সব পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার নিয়োগের পাশাপাশি সেনাবাহিনী টহল দেবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.