নিজস্ব প্রতিবেদক
ঠাকুরগাঁও জেলায় এবছর ব্যাপক আলু চাষ হলেও বাজারে দাম না থাকায় কৃষকের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সারা বছর পরিশ্রম ও সাধনার পর কৃষকরা এখন পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বিপদে পড়েছেন।
এবার ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনুমানিক প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। কৃষকরা আশা করেছিলেন যে, এই বছরের উৎপাদন ভালো হবে এবং সঠিক দাম পাবেন। কিন্তু, আলুর বাজারমূল্য অবিশ্বাস্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বর্তমানে আলুর বাজারমূল্য অনেকটাই কম। একদিকে চাষিরা বড় পরিসরে উৎপাদন করেছেন, অন্যদিকে চাহিদার অভাব এবং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর দাম ১৫-২০ টাকা থেকে ২৫-৩০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা কৃষকের উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে অনেক কৃষকই তাদের উৎপাদিত আলু বিক্রি করতে পারছেন না এবং মাঠেই আলু ফেলে রেখে দিচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং আলুর দাম বৃদ্ধি করে যাতে তারা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন। কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে আলুর দাম না উঠলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের আর্থিক দুরবস্থা তৈরি করবে।
কৃষকরা বলছেন আলুর বীজ,সার,কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার আলুর উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে আলুর দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু চাষীরা।
ঠাকুরগাঁও সদরের বিভিন্ন এলাকার আলুচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাভের আশায় এবারও চাষিরা নানা জাতের আগাম আলুর চাষ করেছেন। প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষে আলু রোপণ করে নভেম্বরে তা বাজারে বিক্রি করা হয়।
তবে এবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বৃষ্টির কারণে খেতের বীজ নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের। এ কারণে নতুন বীজ রোপণ করতে হয়েছে। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চাষের খরচও বেড়েছে। কিন্তু আগাম জাতের সেই আলু বিক্রি করে এখন লোকসানে পড়েছেন কৃষকেরা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাটের আলুচাষি অমল বলেন, এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদে খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকার বেশি।
আলু পাওয়া গেছে ২ হাজার ৬০০ কেজি। তাতে প্রতি কেজি আলু চাষে খরচ পড়েছে ২৩ টাকার বেশি। সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকায়। তাতে কেজিতে ১২ থেকে ১৩ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে
এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং স্থানীয় বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তারা আশাবাদী যে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং আলুর দাম বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে, যাতে তারা তাদের কষ্টের ফলাফল সঠিকভাবে পেতে পারেন।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞