মাতৃত্বকালীন ভাতার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ Ekushey Tribune

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ



ছবি সংগৃহীত 






ঠাকুরগাঁওয়ে ঢোলারহাট ইউনিয়নে মাতৃত্বকালীন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন হতদরিদ্র পরিবারদের কাছ থেকে জন প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপেরাটর ইব্রাহিম আলীর বিরুদ্ধে। 


ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নে। 



জানা যায়, ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের মাধপুর মোলানী পাড়ার আসমা বেগম পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিটার অপেরাটরকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড হওয়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে ঋন করে ৩ হাজার টাকা দেন প্রায় বছর দুইয়েক পূর্বে  

কিন্তু এখন বাচ্চার বয়স দুই বছর হয়ে গেলেও তাঁদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো সময়ই ডাকা হয়নি ভুক্তভোগী আসমা বেগমকে। 


পরে ইব্রাহিম আলীর কাছে টাকা ফেরত চাইলে টাকা না দিয়ে আবারো ভাতা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ভাবে টালবাহানা করতে থাকেন। এই হিসাব সহকারী কাম-কম্পিটার অপেরাটর।


একই গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী জোছনা বেগম বলেন, আমার কাছেও ভাতার কার্ড হবে বলে আমার চাচাতো দেবরে মাধ্যমে ৩৫ শত টাকা সুদের উপরে নিয়ে দেই প্রায় ৬ মাস আগে। যার প্রতি মাসে এখনো লাভ দিতে হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কিন্তু টাকায় গেলো ভাতার কার্ড হলো না। এখনো কার্ড হবে বলে আশ্বাস দিয়ে থাকেন ইব্রাহিম আলী টাকা আর ফেরত দেয় না।


এ ছাড়াও মাধবপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জোছনা আত্তার বলেন, আমাদের এখান কার ৪ জনের কাছ থেকেও ভাতার কার্ড হবে বলে টাকা নেন। চার মাস আগে সেই ইব্রাহিম আলী। আর আমি ও ৩ হাজার টাকা ছাগল বিক্রি করে দেই। কিন্তু বাকি তিনজনের ভাতার কার্ড হলেও আমার কার্ড এখনো হয়নি। আজ হবে কাল হবে বলে দিন পার হয়ে যায় ভাতার কার্ড আর হয় না। আমার ছাগল ও গেলো আর টাকাও গেলো লাভ কিছু হলো না।


এই বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগীর স্বামী আক্তার ইসলাম বলেন, আমার বউ সহ আমার চাচি ও পাশের কয়েক জন মিলে ইব্রাহিম আলী কে টাকা দেই। কিন্তু ২ বছর হয়ে গেলো কার্ড হলো না, শুধু আজ হবে কাল হবে বলে এরিয়ে যায়। আর টাকাও ফেরত দেই না। এটার সুষ্ঠ বিচার চাই আমরা।


মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের টাকা নেওয়া বিষয়ে অভিযুক্ত ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর ইব্রাহিম আলী সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের সাথে রাগান্বিত ভাবে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন তিনি, আমি যে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কারোর কাছ থেকে টাকা নিছি এটার প্রমাণ নিয়ে আসেন এই খানে। আর আমি কারোর কাছে টাকা নেয়নি। আর মাতৃত্বকালীন ভাতার বিষয়ে আমি বলতে পারবো না এটা মেম্বার আর চেয়ারম্যানরা বুঝেন। আমি কিছু জানি না। 

 

এই বিষয়ে ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতা সরকার দেয়, আর এই ভাতা অসহায়, গরিব ও দুস্থ মহিলাদের জন্য অবশ্যই দুই সন্তানের জননী হতে হবে। আমরা শুধু অফিস থেকে তালিকা করে পাঠাই।এই ভাতার জন্য কোন টাকা লাগে না। আর যদি কেউ নিয়ে থাকে তা হলে আমি বলতে পারি না। 


মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ডের টাকা নেওয়ার বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র বর্মন সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পাইনি।


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মাসুদুর রহমান 

ঠাকুরগাঁও 

০৭.০৪.২০২৫

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.