![]() |
| ছবি একুশে ট্রিবিউন |
ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সহায়তা এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের ফলে জেলায় কুমড়া চাষে সাফল্যের মুখ দেখেছেন কৃষকরা। এতে করে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি বাজারে ভালো দাম পেলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
জেলার সদর, রুহিয়া এবং আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে কৃষকেরা এককভাবে এবং অন্যান্য ফসলের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবেও ব্যাপকভাবে কুমড়া চাষ করেছেন। চাষের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ফলনও বেড়েছে। অনেকেই হাইব্রিড জাতের কুমড়া বেছে নিচ্ছেন, কারণ এসব জাত থেকে ফলন যেমন বেশি হয়, তেমনি আকারেও বড় হয় বলে বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, শীতের শুরুতে চারা রোপণের পর এপ্রিল-মে মাসে কুমড়া তোলার সময় আসে। বর্তমানে ক্ষেতজুড়ে দেখা যাচ্ছে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা শত শত সোনালি কুমড়া। এই দৃশ্য কৃষকদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে।
সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের কৃষক গোপাল রায় বলেন, “এ বছর ১ বিঘা জমিতে কুমড়া চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৭-৮ হাজার টাকা। যদি বাজারে ভালো দাম পাই, তাহলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।”
একই উপজেলার মিলন নামে আরেক চাষি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে কুমড়া চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ফলন অনেক ভালো, আশা করছি লাভও বেশি হবে।”
ঠাকুরগাঁও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলায় প্রায় ২,৫০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। গড়ে প্রতি হেক্টরে ৩০-৩৫ টন ফলন মিলছে। হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল আলম বলেন, “মিষ্টি কুমড়া একটি স্বল্পমেয়াদী, লাভজনক ও কম খরচের ফসল। আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি।”
তবে কিছু কৃষকের অভিযোগ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কুমড়া গেলেও স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফলে উৎপাদনে খুশি হলেও সঠিক দামের অভাবে হতাশা রয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চাষিরা।
সব মিলিয়ে, মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটালেও টেকসই লাভের জন্য দরকার সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা ও কৃষকবান্ধব নীতিমালা। কৃষি বিভাগ আশা করছে, ভবিষ্যতে এই চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞