ঠাকুরগাঁওয়ে মরিচ শুকনো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কুদরত আলী স্টাফ রিপোর্টার:

ছবি একুশে ট্রিবিউন 



ঠাকুরগাঁওয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে লাল সোনা খ্যাত মসলা জাতীয় ফসল মরিচ। বর্তমানে ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে শুকনো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। 




রেললাইন, পুকুর পাড় থেকে শুরু করে যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন মরিচ শুকানো কাজে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এলাকার মরিচ চাষীগণ।


তবে মরিচ চাষিরা জানান  গত বছরের তুলনায় এবার ফলন এসেছে খুবই কম।




 


স্থানীয়রা বলছেন, তাপপ্রবাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হয়েছে। এদিকে শুকনো মরিচ বাজারে তুললেও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দাম নিয়ে সিন্ডিকেট করার অভিযোগ রয়েছে চাষিদের।



 


জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও  জেলার মাটি মরিচ আবাদের জন্য উপযোগী হওয়ায় জেলায় ৬ টি জাতের মরিচ চাষ হয়ে থাকে। সব থেকে বেশি চাষ হচ্ছে হটমাস্টার, বাশগাড়া জিরা,ছেকা ও বিন্দু জাতের মরিচ।




 


বৃহস্পতিবার  (২২ মে) সরেজমিনে সদর উপজেলার রুহিয়া, ঢোলারহাট, রাজাগাঁও  এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ থেকে কাঁচা মরিচ তুলে এবং তা মাঠে শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছে মরিচ চাষিরা। একই চিত্র অন্যান্য এলাকাতেও।



রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহাড়ী  এলাকার মরিচ চাষি রইসুল ইসলাম  ও নুর ইসলাম  একুশে ট্রিবিউনকে  বলেন, গত বছর মরিচ চাষ করে লাভ হওয়ায় এবার জমির পরিমাণ বাড়িয়েছি। 


তবে জমি বাড়লেও ফলন কিছুটা কম এসেছে।  ওসমান আলী  নামের ঢোলারহাট এলাকার আরেকজন চাষি বলেন,বৃষ্টি না হওয়ায় এবং তীব্র তাপের কারণে এবার ফলন অনেক কম হয়েছে। অন্যদিকে শুকিয়ে বাজারে তোলার পর গত বছরের থেকে এবছর  দাম কম পাচ্ছি। এতে আমাদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে।



চাষিদের অভিযোগ, গত বছরে মণ প্রতি ৭-১০  হাজার টাকায় মরিচ বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে তা চার হাজার টাকা কমে চার হাজারে নেমে এসেছে। বাজারে তোলার পর দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের শিকার হচ্ছেন তারা।  



রুহিয়া  বাজারে শুকনো মরিচ বিক্রি করতে আসা নাসিরুল  নামে এক চাষি প্রতিবেদককে  বলেন, আমি  বাজারে শুকনো মরিচ এনে বিপাকে পড়েছি। ব্যবসায়ীরা দাম অনেক কম দিচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট শুরু করেছে।



তবে মরিচ ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে চাহিদা কম থাকায় দাম কম যাচ্ছে। একই সঙ্গে মরিচের মান ও অজনে কম হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে বাজার ভালো যাচ্ছে।



এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, গত বছর  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায়  ২৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হলেও এবার কিছুটা কমে ২২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে চলতি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ১.৯৫  মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 



ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিরুল আলম একুশে ট্রিবিউনকে বলেন চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আলু বেশি চাষ হওয়ায় মরিচ চাষ গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। ফলন কম এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মরিচের ফলন কম হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন শুধু মরিচ নয় কৃষকের কৃষি নিয়ে  যে কোন বিষয় সঠিক  পরামর্শ  উপজেলা কৃষি অফিস প্রদান করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.