শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা
![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
গাইবান্ধা জেলা নিয়ে কথিত আছে, স্বাদে ভরা রসমঞ্জরীর ঘ্রাণ,চর অঞ্চলের ভুট্টা মরিচ গাইবান্ধার প্রাণ।উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা জেলার নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠবে
রসমঞ্জুরীর কথা।রসমঞ্জুরী বাংলার এক বিখ্যাত মিষ্টি।১৯৪৮ সালে শহরের সার্কুলার রোডের রমেশ সুইটসের কর্ণধার রমেশ চন্দ্র ঘোষ জেলায় সর্বপ্রথম রসমঞ্জুরী তৈরি করেন। সে সময় ভারতের উড়িষ্যা থেকে কারিগর এনে তিনি এই মিষ্টি তৈরি করতেন। পরবর্তী এক দশকের মধ্যেই রসমঞ্জরীর স্বাদ জেলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী মানুষকে আকৃষ্ট করে।
গোল গোল নরম মিষ্টি ঘন লালচে দুধে জমে যেন ক্ষীর। এই মিষ্টি মুখে দিলেই মিলবে অদ্ভুত প্রশান্তি। রস আর অনন্য স্বাদের জন্য এই মিষ্টির নাম রসমঞ্জুরী। এটি গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, যা দেশ পেরিয়ে এখন বিদেশেও যাচ্ছে।
দুধ, ছানা, ক্ষীর ও চিনির মিশ্রণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট গোলাকার ছানায় তৈরি মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয় দুধের ঘন রস।গাইবান্ধার ছোট বড় প্রায় সব মিষ্টির দোকানেই এখন রসমঞ্জুরী বিক্রি হলেও শুরুটা হয় রমেশ ঘোষের হাত ধরে। ১৯৪৮ সালে শহরের সার্কুলার রোডের রমেশ সুইটসের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জেলায় সর্বপ্রথম রসমঞ্জুরী তৈরি করেন।
রমেষ ঘোষের মৃত্যু হয়েছে বেশ আগে। এখন তার ব্যবসা ধরে রেখেছেন স্বজনরা।প্রতিদিন এক একটি দোকানে তৈরি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি রসমঞ্জুরী। এর একটি অংশ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।
দোকানের প্রধান কারিগররা রসমঞ্জরীর প্রস্তুত প্রণালি সম্পর্কে জানান, প্রথমে বিভিন্ন খামারি ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির কাছে খাটি দুধ সংগ্রহ করেন তারা। এরপর বড় কড়াইয়ে সেগুলো জ্বাল দিতে হয়। পরে ফুটন্ত দুধ ঠান্ডা করে হালকা গরম অবস্থায় ছানা ছেঁকে বের করতে হয়।তারপর হালকা আটা, সুজি ও চিনি দিয়ে মিশ্রণটি মেশিনে দিয়ে গোল গোল করে মিষ্টি কাটতে হয়। পরে সেগুলো ফুটন্ত চিনির সিরায় ১০ থেকে ১২ মিনিট সেদ্ধ করে ফের সিরায় নামানো হয়। কিছুক্ষণ ঠান্ডা করার পর তা ক্ষিরে ডোবালেই ক্ষির-গুটি মিলে তৈরি হয় সুস্বাদু ও রসে টইটুম্বুর রসমঞ্জুরী।এটি খেতে অত্যান্ত সুস্বাদু এবং মুখরোচক খাবার।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞