গতকাল ৮ ই সেপ্টেম্বর সোমবার, ঠিক বিকেল চারটায়, অভয়াকাণ্ডে আন্দোলনকারী ও প্রতিবাদকারী ডাক্তারদের এক বছর বাদে, একের পর এক থানা ডেকে পাঠাচ্ছেন , আজ হাজির হলেন, প্রতিবাদী চিকিৎসক আশফাকউল্লা নাইয়া হেয়ার স্টিট থানায়। তাহার কাছে একটি নোটিশ পৌঁছায়।
কিন্তু হাজিরা দিতে সে জানতে পারেন তাহার নামে নাকি আরো আটটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।। আইনজীবী মারফত জানতে পারেন, অবাক হয়ে জান।
আজ হেয়ার স্ট্রীট থানার সামনে, জয়েন্ট ডক্টর ফোরাম ও অভয়া মঞ্চের বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন পূর্ণচন্দ্র গুইন, উৎপল ব্যানার্জি, অনিকেত মাহাতো সহ অন্যান্য ডক্টরেরা এবং অভয়া মঞ্চে সদস্যরা।
তাহারা সামনে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন, এবং পুলিশ মন্ত্রীকে ধিক্কার জানাতে থাকেন, তারা বলেন যতই আপনি প্রশাসন দিয়ে আমাদেরকে দমানোর চেষ্টা করেন আমরা অভয়ার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই আন্দোলন চালাবো, কত ডাক্তারদের আপনারা ডেকে পাঠাবেন দেখতে চাই,
তাহারা আরো বলেন, ঘটনা ঘটে নয় আগস্ট, এবং ৯ আগস্টের পর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অভয়ার ন্যায় বিচারের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছিল, আন্দোলনে সারা দেশের মানুষ সাড়া দিয়েছিল, এমনকি ডক্টরেরাও , কিন্তু এক বছর বাদে হঠাৎ শীতঘুম কাটিয়ে প্রশাসন জেগে উঠলো, তাই এক বছর আগেকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, কেস দিয়ে ডাক্তারদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে, কেসগুলোকে একটু নাড়াচাড়া করে দেখছে। আসল দোষীদের ধরতে না পেরে, কর্তব্যরত ডাক্তারদের হ্যারেজমেন্ট করে বারবার ডাকা হচ্ছে।
যাহারা রোগীদের ২৪ ঘন্টা পরিসেবা দেয়, শুধু তাই নয়, যেই সময় ডেকে পাঠাচ্ছেন, সেই সময় পেসেন্ট দেখার কথা ওটিপিতে ও ইনডোরে, দূর দুরান্ত থেকে রোগীরা পরিষেবা পাওয়ার জন্য হসপিটালে আসে।, আর প্রশাসন সেই সকল ডাক্তারদের একটা অজুহাত দিয়ে ডেকে পাঠাচ্ছেন। আর ডক্টররা ছুটে আসছেন। মানে সেই দিনটা সেই ডাক্তার বাবু কোন রোগী দেখতে পাচ্ছেন না, শুধু তাই নয়, ডাক্তারদের ডেকে ঘন্টার পর ঘন্টা হ্যারাসমেন্ট করছেন এবং সময় নষ্ট করছেন।, কারণ তিনি মিছিলে তাহার নৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাই বেছে বেছে কিছু ডাক্তারকে এইভাবে হেয়ার স্ট্রীট থানা ও বউবাজার থানা সহ অন্যান্য থানা ডেকে পাঠাচ্ছেন।, কিন্তু লাভের লাভ কিছু হবে না , হাজারো ডেকে যান, হাজারো নোটিশ পাঠান। একটা কথা জেনে রাখবেন হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কি জনগণ জানতে পারছে। আর কি করতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার,
আজ প্রতিবাদী ডাক্তার, আশফা কউল্লা নাইয়া বলেন , আমি একটি নোটিশ পেয়ে আজকে বিকেল চারটায় হাজিরা দিতে এসেছিলাম আমার আইনজীবির সাথে।, কিন্তু থানার ভেতর ঢুকে জানতে পারি আইনজীবির কাছ থেকে আমার নামে আরও ৮ টি নোটিশ গেছে, তাই সেই আটটি নোটিশের কপি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাই সময় দিয়েছেন রাত্রি নটা, আমি একটি কথাই জানিয়েছি, আটটি নটিশ আর ৫০০ নোটিশ হোক, প্রশাসনের কাছে এইটুকুন আশা করব যেন, সকল নোটিশ অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ একদিনেই হয়, মানবিক দিক থেকে, কারন আমারও কর্তব্য দায়িত্ব আছে রোগীদের পরিষেবা দেওয়া, রোগীদের সময়ে সেবা দেওয়া, বারবার আসতে হলে, ৩০ থেকে ৪০ জন পেশেন্ট চিকিৎসা না পেয়ে অসুবিধায় পড়বেন, কারণ অনেক পেশেন্ট আছেন যারা আমার নম্বর নিয়ে, ফোন করে আসেন, এবং দুর-দূরান্ত থেকে পরিষেবা পাওয়ার জন্য হসপিটালে দৌড়ে আছেন,
তবে প্রতিবাদীদের কাছ থেকে জানা যায় এবং প্রশাসন এ সকল ডাক্তারদের ডেকে পাঠাচ্ছেন তাদের কাছ থেকে, প্রশাসন তাহাদেরকে যে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার না করে, কিছু তথ্য চাইছেন, তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট আছে কিনা, কোন অ্যাড্রেসে, প্যান কার্ড আছে কিনা , আধার কার্ড আছে কিনা, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।, চেষ্টা করছেন যেভাবে হোক মুখ বন্ধ করার, কিন্তু তাহারা একটা কথাই বলেন, আমরা ন্যায়ের বিচার চেয়েছি, তাই হাজারবার ডাকলেও, আর ন্যায় বিচার যতদিন না পাবে অভয়া, আমরা এই আন্দোলন ও প্রতিবাদ করবো। আপনারা কতজন ডাক্তারকে ডেকে পাঠাবেন ও নোটিস দেবেন দিন, ও তবুও আমাদের আন্দোলন থামবে না ।
রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞