ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ গ্রাম। আজ হঠাৎই যেন লেগে গেছে সোনার খনি ।
খবর ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম থেকে গঞ্জে এখানে মাটি খুঁড়লেই নাকি সোনা পাওয়া যাচ্ছে। এই খবরে গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলের পর থেকেই এ গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামের কয়েকজন জানান, দু’জন মানুষ নাকি সত্যিই মাটি খুঁড়ে সোনা পেয়েছেন। সেই খবর এক কান থেকে আরেক কানে ছড়িয়ে পড়তেই যেন হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। আজ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শিবগঞ্জের ওই স্থানে ভিড় জমায় শত শত মানুষ ।তার কথাই আশেপাশের মানুষের বিশ্বাস আরো জোরদার করেছে।
জান্নাতের সঙ্গে আরো এক তরুণের নাম উঠে এসেছে, যিনি নাকি গতকাল সামান্য সোনা পেয়েছিলেন। তবে এ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।
আজকে সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শুধু শিবগঞ্জ নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকেও মানুষ দলে দলে সেখানে ভিড় করছেন। ভ্যান-রিকশা, মোটরসাইকেলে করে অনেকেই এসেছেন। বিকেল গড়িয়ে রাত নামার আগ পর্যন্ত চলেছে এই মাটি খোঁড়াখুঁড়ি।তবে এ নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ ব্যার্থ হয়।
স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, এটা আসলে গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। কেউ হয়তো সোনা সদৃশ ধাতব কিছু পেয়েছিলেন, সেটাই এখন বিশাল কাহিনিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু গুজবের প্রভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের কাজকর্ম ফেলে মাটিখোঁড়ায় নেমে পড়েছেন।
গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘মানুষের মধ্যে এখনও কুসংস্কারের প্রভাব রয়েছে। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই সবাই বিশ্বাস করছে। এতে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে, ক্ষেতের ক্ষতি হচ্ছে।’
উল্লেখ্য এর আগেও গত বছর ঠাকুরগাঁও রানিশৈংকল উপজেলায় এক ইট ভাটার মাটির স্তূপ এইরকম ঘটনা ঘটে সেটিও সারাদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে সেই মাটির স্তূপ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞