কুদরত আলী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা। করলা, বেগুন, টমেটো, লাউ, লাল শাক, পালং শাক, শিম, শসা, চিচিঙ্গা, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা শীতকালীন সবজির ফসল পরিচর্যায় বেশির ভাগ সময় কাটছে কৃষকের।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এ বছর সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি বছর উচুঁ জমিগুলোর বেশিভাগ জমিতেই আমন ধান রোপন করতে পারেনি চাষিরা। এ অবস্থায় উঁচু জমিগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষাবাদের কাজে লাগাচ্ছেন তারা। এছাড়াও আলু ও মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার বেশি লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজিই মূল লক্ষ্য সদর উপজেলার শীতকালীন সবজি চাষিদের।
চলতি বছর সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হবে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিকটন শাক-সবজি। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের চাহিদাও পূরণ করবে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট, রাজাগাঁও, মোলানখুড়ী, রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের মন্ডলাদাম গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে দিনমজুরদের সঙ্গে ক্ষেত পরিচর্যা, রোগ-বালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন সবজি চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১০ দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে শীতকালীন শাকসবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।
সদর উপজেলার রুহিয়া থানার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের মন্ডলাদাম এলাকার সবজি চাষি সবুজ ইসলাম বলেন, এ বছর উঁচু দেড় একর জমিতে করলা এবং এক একর জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন তিনি। করলার গাছে ফল আসা শুরু করেছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজারে তোলার যাবে বলে ধারণা করছেন।
শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়ি বাড়ি গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ মোজাহারুল ইসলামের ছেলে আনিসুর রহমান।তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার ফলে করলা ক্ষেতে সেচের পরিমাণ এবার কম লাগছে। সবজি দ্রুত বাজারে তুলতে পারলে ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি ভাল লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
ঢোলারহাট ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকার সবজি চাষি হবিবর বলেন, এক একর জমিতে করলা চাষে তিনি ৪৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন। বাজারে তোলা পর্যন্ত আরও ২-৩ হাজার টাকা খরচ হবে।
২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জগদীশ শর্মা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার শিক্ষিত বেকারও ঝুঁকছেন সবজি চাষে। এখন সবজি কম পাওয়া গেলেও ১০-১৫ দিনের মধ্যে সবজি উৎপাদন শুরু হবে। তিনি বলেন আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে আসছি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিরুল আলম বলেন , আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির বাম্পার ফলন হবে। এই এলাকার মাটি অনেক উর্বর তাই ফলন বেশি। এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কারিগরি সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞