স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এক সরকারি কলেজ ঘিরে চলছে দুর্নীতি, লুটপাট আর ক্ষমতার নগ্ন প্রদর্শনী। অভিযোগের তীর উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার দিকে — যিনি কলেজের অধ্যক্ষ ও কলেজ কমিটির সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে ‘অঘোষিত সম্রাট’ হিসেবে রাজত্ব করছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সুযোগ-সুবিধার আড়ালে তিনি কলেজের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, কলেজের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত টাকা আদায়—সবই চলছে তার নির্দেশে।
নিয়োগ বাণিজ্য থেকে ভবন দুর্নীতি
শিক্ষক নিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি রয়েছে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের একের পর এক কেলেঙ্কারি। কলেজের উন্নয়ন প্রকল্প, মেরামত কাজ, ও ভবন নির্মাণে টেন্ডারবিহীন ব্যয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
কেবল তাই নয়, ছাত্রদের কাছ থেকে বাস ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়, কলেজের ফান্ডে অনিয়মিত জমা, এমনকি অভিভাবকদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‘অধ্যক্ষ’ নাকি অর্থখেকো সিন্ডিকেটের প্রধান?
সরকারি দায়িত্বের আড়ালে এই অধ্যক্ষ তৈরি করেছেন দুর্নীতির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। উপজেলা শিক্ষা দপ্তর থেকে শুরু করে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী পর্যন্ত সবাই নীরব, যেন ভয় বা সুবিধার কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, কলেজ কমিটির সভাপতি ও অধ্যক্ষের যোগসাজশে প্রায় দেড় দশক ধরে চলছে অর্থ লুটের রাজত্ব। অভিযোগের পাহাড় জমলেও প্রশাসন নীরব দর্শক।
দুদকের তদন্তে নতুন তথ্য
২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা দুদক অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখ আছে, তিনি ব্যক্তিগত নামে কলেজের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে প্রায় কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
জনগণের প্রশ্ন: এত প্রভাব কোথা থেকে আসে?
একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কিভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন? কার ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে এই দুঃসাহসিক দুর্নীতি চলছে? স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতার রাজনীতি আর প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
দুদক ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার এই অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তারা বলছেন, “এখন সময় এসেছে শিক্ষা নয়, দুর্নীতির পাঠ বন্ধ করার।”


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞