ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
![]() |
| ছবি একুশে ট্রিবিউন |
গভীর নলকূপ হতে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঠাকুরগাঁও উপজেলা
সদরের রুহিয়ায় নির্মাণ করা হয় পাইপ লাইনযুক্ত গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প। দকিন্তু পানি সরবরাহ শুরুর তিনবছরের মাথায় বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটির পানি সরবরাহ। প্রকল্পটির বৈদ্যুতিক মোটর বিকল থাকায় সহজলভ্য আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর বঞ্চিত রয়েছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।
জানা যায়, ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে আর্সেনিকের অভিশাপ থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়ায় ১৫ লাখ টাকার প্রক্কলিত ব্যয় ধরে একটি প্লান্ট স্থাপন করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্তর ও রুহিয়া পোষ্ট অফিস সংলগ্ন দুটি বৈদ্যুতিক মোটর বসানোর জন্য পাকাঘর, তিনটি কমিউনিটি রিজার্ভার (ট্যাংক) ও বাড়ি বাড়ি পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়।
প্রকল্পটির আওতায় ঘনিমহেষপুর ও ঘনিবিষ্ণপুর এলাকার ২ কিলোমিটার পাইপ লাইন বিস্তৃত করে ৮০টি পরিবারে নিরাপদ পানির সংযোগ প্রদান করা হয়। যথারীতি ১জন অপারেটর নিয়োগও দেওয়া হয়।
প্রথম বছর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পরবর্তীতে স্থানীয় পানি সরবরাহ সমিতি প্রকল্পটি নিয়ন্ত্রণ করতো। জামানত হিসাবে গ্রাহক প্রতি ৫০০ টাকা করে নিয়ে সোনালী ব্যাংক রুহিয়া শাখায় হিসাব নম্বর খোলা হয়।
মাসিক ৫০ টাকা ফি-গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করে ওই টাকায় অপারেটরের বেতন প্রদান ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার কথা। কিন্তু ২০০৮ সালে প্রকল্পটি শুরুর ৩ বছরের মাথায় প্লান্টের বৈদ্যুতিক মোটর দুটি বিকল হয়ে যায়। তারপর আর মোটর দুটি সচল হয়নি। এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে প্রকল্পটি। এতে সহজলভ্য ও আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ।
সরেজমিন দেখা যায় বৈদ্যুতিক মোটর দুটির ঘরে তালা ঝুলতে। জানালা দিয়ে মোটর বসানো পাকাঘরের ভেতরে দৃষ্টি পৌঁছালেও চোখে পড়েনি বৈদ্যুতিক মোটর (পাম্প) কিংবা কোন সরঞ্জাম। বৈদ্যুতিক মিটারের বোর্ড লাগানো আছে তবে পাওয়া যায়নি মিটার। নেই কোন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা। গ্রামীণ নিরাপদ পানি সরবরাহ প্লান্টটির দেয়ালে নেই কোনো বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা তথ্য।
স্থানীয়রা বলছেন, নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে তা জানা নেই। আর পানি সরবরাহ করা হয়েছিল বটে, কিন্তু ঠিক কী কারণে সেটি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তা-ও অজানা তাদের।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে প্রকল্পের অপারেটর মো আলম জানান, বিকল বৈদ্যুতিক মোটর দুটি মেরামতের জন্য জনস্বাস্থ্য অফিস নিয়ে গেছে। পরে কি হয়েছে সেবিষয়ে কিছু জানেননা তিনি।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা সহজলভ্য গ্রামীণ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্ছিত রয়েছে। পানি সরবরাহের পাইপ লাইন নষ্ট হয়ে গেছে। নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পটির সুবিধা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, পুনরায় প্রকল্পটি চালুর চাবি তাদের।
প্রকল্প পরিচালনা কমিটির সাধারণ-সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য মো আইনুল হক জানান, প্রকল্প থেকে যে আয় হবে তা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা ছিলো। নির্মাণ ও চালুর পর ওই প্রকল্পে সরকারিভাবে টাকা বরাদ্দের কোনো সুযোগ ছিলো না। বৈদ্যুতিক মোটর মেরামত ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সুবিধাভোগী পরিবারদেরই বহন করার কথা ছিলো। কিন্তু সেই সময়ে ঘনঘন লোডশেডিং হতো, লোডশেডিংয়ের কারনে টাকা দিয়ে পানির লাইন নিতে চাইতেন না গ্রাহক। তবে প্রকল্পের মোটর দুটি কোথায় সেটি নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পটির সংযোগ ব্যবহারকারি চৌধুরী বলেন, বছর কয়েক চলার পরেই পানি সরবরাহ বন্ধ হবে যায়, জামানতের টাকাও ফেরত পাইনি। সহজলভ্য ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার চাবি জানান তিনি।
রুহিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে প্রকল্পটি বিকল হয়ে আছে। ২০১১ সালে নির্বাচিত হয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কথা বললেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তারিখ: ২১/০৫/২০২৫ ইং


❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞