একুশে ডেক্স রিপোর্ট
রুহিয়া ডিগ্রি কলেজে আজ এক আনন্দঘন পরিবেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের পরিবেশ ও রোভার স্কাউট এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোভার স্কাউট ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন। এছাড়াও রুহিয়া শহরে হেলমেট পরিধানকারী মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে উপহারস্বরুপ মহা মুল্যবান গাছ দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, "বৃক্ষ আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশকে রক্ষা করে না, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে সহায়ক।"বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪) বেলা ১১ টায় কলেজের বিভিন্ন স্থানে ২০০টি এর মতো গাছ রোপণ করা হয়।
প্রথমেই রোভার স্কাউট এর সদস্যগন কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। রোপণকৃত বৃক্ষদের মাঝে ছিলো কড়ই, বকুল, জাম, আম, কাঠাল, কৃষ্ণচূড়া, নিম, চালতা, মেহগনি,অর্জুন ইত্যাদি।দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা এক আম গাছ রোপণ করে বলেন, "আমি আশা করি, এটি বড় হয়ে আমাদের ফল দেবে এবং পরিবেশকে সবুজ রাখবে।" রোভার স্কাউট এর সদস্য শাহাজাদ ইসলাম বলেন, "আমি আজ একটি নিম গাছ রোপণ করেছি। এটি আমাদের বায়ু পরিশোধিত করবে।" এবং পরিবেশকে সবুজ রাখবে।
অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও এই কর্মসূচিতে সানন্দে অংশগ্রহণ করেন। কলেজের উপাধ্যক্ষ শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "এই ধরনের কার্যক্রম আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং তাদেরকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়।" বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন করে।
এতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল, যেমন "গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান" এবং "সবুজ পৃথিবী, সুস্থ জীবন"।
এছাড়া, পরিবেশ সুরক্ষার উপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কলেজের রোভার স্কাউট ডিএসআরএম শিক্ষক মোঃ রায়হান উদ্দিন ঘোষণা দেন যে, আগামী বছরে আরও বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ের আঙিনায় নয়, বরং পুরো এলাকায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।"
সব মিলিয়ে, রুহিয়া ডিগ্রি কলেজে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত সফল ও আনন্দময়ভাবে সম্পন্ন হয়। এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে, যা ভবিষ্যতে একটি সবুজ ও সুস্থ পরিবেশ গড়তে সহায়ক হবে।




❝আপনি আপনার মতামত দিন, অবশ্যই ভালো রুচিশীল মন্তব্য করুন 🙂 ধন্যবাদ ❞